ব্যর্থতা সাফল্যের চাবিকাঠি, ইসরোর সাফল্য আজও বিশ্বে রেকর্ড, দেখে নিন একনজরে

1120
- Advertisement -
Image Source : Google

চাঁদের অজানা অংশে চন্দ্রযান-২ কে পাঠানো থেকে ইসরো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সারা বিশ্ব জুড়ে। এই প্রজেক্ট শেষমুহূর্তে হতাশা আনলেও বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে ইসরো। ১৯৬৯ সালে ইসরোর প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি ইসরোর সমস্ত প্রজেক্টের খুটিনাটিতে আসুন একবার চোখ বুলিয়ে নিই। মহাকাশ বিজ্ঞানে সারা বিশ্বে ৬ নম্বরে রয়েছে ভারত। আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি, চিন এবং জাপানের পরই ভারতের স্থান। এমনকি ভারতের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে ইজরায়েলও।

- Advertisement -

এপ্রিল ১৯, ১৯৭৫: ভারতের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট আর্যভট্ট তৈরি করে ইসরো। যদিও তখন দেশীয় প্রযুক্তিতে কোনও স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করেনি ইসরো। তাই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের যানে চরে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিল আর্যভট্ট। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ২ টাকার নোটের পিছনে আর্যভট্টের ছবিও দেওয়া থাকত।

জুলাই ১৮, ১৯৮০: ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এসএলভি-৩। এই এসএলভি-৩ চেপেই পৃথিবীর কক্ষপথে পাড়ি দিয়েছিল রোহিনী। রোহিনী মূলত ইসরোর পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ছিল। ভারতের তৈরি এসএলভি-৩ ক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্যই এই উৎক্ষেপণ করেছিল ইসরো। পরীক্ষায় দারুন সাফল্য পায় ইসরো।

মে ২০, ১৯৯২: ভারতের জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার জন্য ইনস্যাট-২এ নামে এক স্যাটেলাইট পাঠায় ইসরো। অগমেন্টেড স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এই স্যাটেলাইট নিয়ে পাড়ি দিয়েছিল পৃথিবীর কক্ষপথে। সফল হয় ইনস্যাট-২এ উত্‌ক্ষেপন।

অক্টোবর ২২, ২০০৮: ভারতের প্রথম চন্দ্রাভিযানের বছর। ২০০৮ সালে চন্দ্রযান ১-কে চাঁদে পাঠায় ইসরো। চাঁদে পৌঁছনোর পর থেকে এখনও চন্দ্রযান ১-এর অরবিটার চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে চলেছে। চাঁদের পৃষ্ঠদেশ থেকে ২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় পাক খাচ্ছে সেটি। ২০০৯ সালের ২৯ অগস্ট লুনার অরবিটারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয় ইসরোর। তবে তত দিনে মিশন সফল হয়ে গিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১২: জাপানের মাইক্রো-স্যাটেলাইট প্রয়টেরিস এবং ফরাসি স্যাটেলাইট স্পট ৬ নিয়ে ইসরোর পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএলএলভি-সি২১) উৎক্ষেপণ হয়। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন স্পেস সেন্টার থেকেই এর উৎক্ষেপণ হয়েছিল।

নভেম্বর ৫, ২০১৩: ভারতের প্রথম মঙ্গল অভিযান। রাশিয়ার রসকসমস, আমেরিকার নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির পর ইসরো চতুর্থ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা যারা মঙ্গল অভিযান করে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পাড়ি দিয়েছিল মহাকাশযান। ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলের কক্ষপথ ছুঁয়ে ফেলে ভারত।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭: এই দিনই এক অনন্য রেকর্ড করে ইসরো। এই প্রথম কোনও রকেট এক সঙ্গে ১০৪টি স্যাটেলাইট নিয়ে পাড়ি দেয় মহাকাশে। ওই বছরেই ৫ জুন স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ (জিএসএলভি মার্ক-৩) জিস্যাট-১৯ পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠায় ইসরো।

নভেম্বর ১৪, ২০১৮: ৩ হাজার ৪২৩ কেজি ওজনের জিস্যাট-২৯ স্যাটেলাইট রকেটে চেপে শ্রীহরিকোটা থেকে রওনা দেয়। এত ভারী কোনও স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ ইসরোর এই প্রথম। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে এই স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে।

জুলাই ২২, ২০১৯: জিএসএলভি মার্ক-৩ এর সঙ্গে চন্দ্রযান ২-কে উৎক্ষেপণ করে ইসরো। এটাই ছিল ভারতের চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথম অভিযান। রাশিয়া, আমেরিকা, চিনের পর ভারতই চতুর্থ দেশ যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফট ল্যান্ডিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল। সফল ভাবে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে গেলেও ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে অরবিটারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অবতরণের সময়।

আরোও পড়ুন :