১০ বছর বয়সেই অভাবনীয় আবিষ্কার, চাকরি পেলেন Google- এ, পুরোটা পড়লে চমকে উঠবেন

Image Source : Google

কারও যদি প্রতিভা থাকে তাহলে সেটা এক সময় না একসময় ফুটে পেরোবেই, এর জন্য বয়সের প্রয়োজন হয় না। আর তাই প্রতিভার কাছে বয়স যে কোনও বাধাই নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করলো এই ক্ষুদে। সাধারণত যে বয়সে সবাই খেলাধুলা এবং পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, এবং স্কুলের হোমওয়ার্ক বা নাচ ,গান অথবা অন্য কিছু বিষয়ে পারদর্শী হওয়ার চেষ্টা করে, ঠিক সেই বয়সেই যদি সেই বাচ্চা ছেলে-মেয়েটি কাউকে শিক্ষাদান করে তাহলে তো সে তাহলে জিনিয়াসই বটে, তাই নয় কি?। আর এই ক্ষুদে শুধু কাউকে শিক্ষাদান করাই নয়, তার থেকেও বড় কিছু কাজ করে ফেলেছে এই বয়সেই। আমরা সবাই জানি যে বর্তমানে বিজ্ঞানভিত্তিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি অন্যতম যন্ত্র হলো কম্পিউটার, যা ছাড়া আমরা রীতিমত অচল। আর এই কম্পিউটারের সফটওয়্যার ও বর্তমানের বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করতে কোডিং হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর এই কোডিং-এর বিষয়েই এই ক্ষুদে রীতিমত এক অবিশ্বাস্য দক্ষতা অর্জন করেছে।

- Advertisement -

১০বছর বয়সের এই ক্ষুদের নাম হল সামাইরা মেহতা যার ছোটো থেকে বড় হয়ে ওঠা ভারতীয় বংশোদ্ভূত জিনিয়াস সিলিকন ভ্যালিতে। এই ক্ষুদে হল বর্তমান প্রজন্মের একজন সফল প্রোগ্রামার। আর তাই ইতিমধ্যেই এই ক্ষুদে মাত্র ১০ বছর বয়সে “কিডস বাণিজ” নামে নিজের একটি কোম্পানি খুলে ফেলেছে ,যা তার মতোই বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের কম্পিউটারের কোডিং শেখানোর প্রাথমিক জ্ঞান দেবে। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক হল “সামাইরা মেহতা” নামের এই ক্ষুদে নিজেই। তার এই প্রতিভা শুধু আমেরিকাই নয় ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে । সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়ক সম্মেলনে এই ক্ষুদেকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হচ্ছে এবং তার পাশাপাশি এই আবিষ্কারের কথা সকলকে শোনানোর জন্য তাঁকে অনেকবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

যখন তার বয়স মাত্র ৮ বছর ছিলো তখন থেকেই সে এই আবিষ্কারের পদ্ধতি শুরু করেছিল। আসলে এই ক্ষুদের ভাবা বাবা “রাকেশ মেহেতা”, তিনিও একটি “ইনটেল” নামক আইটি কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার। তাই কম্পিউটার ঘাঁটতে ঘাঁটতেই এই ক্ষুদের ছোটো থেকে বড় হয়ে ওঠা ।এই কিশোর বয়সেই সে তাঁর বাবার সাহায্য নিয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর একটি ছোট্ট গেম “কোডার বাইনজ” তৈরি করে ফেলেছিল, যা আসলে অন্যান্য সকল শিশুদের কোডিং শেখানোর একটি প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক খেলা ছিলো। কোডিং বিষয়ে মাত্র ৬ বছর বয়স থেকেই এই ক্ষুদের প্রতিভা প্রকাশ পেতে শুরু করে । আর “থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লার্নিং পিচ ফেস্ট ২০১৬” নামক এক প্রতিযোগিতায় এই গেম বোর্ড তৈরি করার জন্য সে দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করে এবং ২৫০০ ডলারের একটি চেক ও পায়।

পরবর্তীকালে সে তাঁর বানানো এই নিজস্ব গেমটি একটি অনলাইন সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে শুরু করলে মাত্র ১ বছরের মধ্যেই এই গেমের ১০০০ কপি বিক্রি হয়ে যায় এবং এই গেম বিক্রি করে সে বছরে ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার আয় করে। আর আস্তে আস্তে এই ক্ষুদের পরিচিতি বাড়আর ফলে গুগল, মাইক্রোসফট এর মত নামী কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক কোম্পানি গুলো তাদের নিজস্ব ওয়ার্কশপে এই ক্ষুদে জিনিয়াসকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন এবং বিভিন্ন কম বয়স্ক শিশুদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়ে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ওয়াকসপ করার দাবি জানান।

এমনকি গুগল থেকে তাঁকে চাকরির অফার ও দেওয়া হয়েছে। গুগল থেকে তাঁক জানানো হয় যে, যখন তাঁর কলেজে পড়া শেষ হবে, তখন যদি সে চায় তাহলে সে গুগলে একজন প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও এই ক্ষুদে যে, জানিয়েছে সে কোনো কোম্পানির সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করতে চায় না, বরং সে তাঁর নিজের এই উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একক ভাবে এক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করার স্বপ্ন দেখে।

আরোও পড়ুন :