এই করোনা আবহের মধ্যে যদি আপনারও সাধ হয় পটল তোলার তবে এখনই পড়ুন

37
- Advertisement -

চলো পটল তুলি। আরে না না এ পটল তুলতে ভালোই লাগবে৷ পুজোয় মুক্তি পেয়েছে নতুন বাংলা সিনেমা চলো পটল তুলি। এই সিনেমার প্রযোজক শাঁওলী মজুমদার৷ সিনেমার কথা এলেই অভিনেতা পরিচালকের সিনেমা বানানোর গল্প থাকে। কিন্তু আজ শোনাবো প্রযোজকের গল্প বলা ভালো প্রযোজক হয়ে ওঠার গল্প। প্রযোজক হিসেবে শাঁওলী মজুমদারের এটা প্রথম ছবি। চার্বাক নাট্যগোষ্ঠীর নাটক ‘চলো পটল তুলি’ যা ২৫০ রজনী দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছে, সেই নাটককেই এবার সিনেমার পর্দায় নিয়ে এলেন শাঁওলী। কিন্তু কেন এই সিনেমা করলেন শাঁওলী?

- Advertisement -

শিল্পের দুই ধারার মেলবন্ধনে প্রয়াসী শাঁওলী৷ চার্বাকের নাটকের মতই সিনেমার চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনা অরিন্দম গাঙ্গুলীর। শিবরাম চক্রবর্তীর কাহিনী অবলম্বনে তৈরী এই সিনেমার মূল ঘটনা অশ্বিনীকে নিয়ে। অশ্বিনী চাকলাদার ‘বেরি বেরি’ সারানোর জন্য যে যা বলেন তাই করেন। প্রধান চরিত্রের ইনসিকিওরিটি বা নিরাপত্তাহীনতাই প্রযোজকের কাছে মূল আকর্ষণ। অশ্বিনী চাকলাদার লোকটা কি আদৌ পাগল? বাতিকগ্রস্থ নাকি কোনো এক অজানা ভয় মানুষটাকে তাড়া করছে, হাসির অন্তরালে আমাদের জীবনের সেই চিরপরিচিত ভয় অনিশ্চয়তাকে সিনেমার চিত্রনাট্য, সংলাপে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক অরিন্দম গাঙ্গুলী।

এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। এছাড়া অভিনয় করেছেন খেয়ালী দস্তিদার, অরিন্দম গাঙ্গুলী, গৌরব চক্রবর্তী, রিমঝিম মিত্র, দেবরাজ, দেবশঙ্কর হালদার, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখার্জী, শুভাশিস মুখোাধ্যায়, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনামিকা সাহা, বিশ্বনাথ বসু, কাঞ্চন মল্লিক, তনিমা সেন, জর্জ বেকার, ঈশান মজুমদার, দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজিত ঘোষের মত দক্ষ অভিনেতারা ও আরও অন্যান্যরা।
করোনা আবহে মানুষ যখন প্রতিনিয়ত মনের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন, অবসাদ থেকে মুক্তি চাইছেন তখন মন ভালো রাখতে মানুষের মুখে একরাশ হাসি ফোটানোই এই ছবির মূল উদ্দেশ্য।

আমাদের জীবনে সব থেকে ভয়ের শব্দ বোধহয় অনিশ্চয়তা। অথচ শিল্পের টানে এই ভয়কে ভালোবেসে আপন করেছে এই মেয়ে৷ গান কবিতার মেলবন্ধন ঘটানোতেই থেমে থাকেনি কবিতা আবৃত্তির ব্যান্ড তৈরি করে ফেলল! মহুল আবৃত্তির ব্যান্ডকে আনলেন সুরের সাগরের মাঝে৷ প্রথমটা শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হয়, কিন্তু এইটাকেই প্রতিমুহূর্তে প্রাণদান করে চলেছেন শাঁওলী মজুমদার। অসম্ভবের অন্ধকার থেকে সম্ভাবনাময় আলোর সন্ধান করে চলেছেন।

এক আলো থেকে আরেক আলোয় ছড়িয়ে পড়তেই চায় সে। তাই তো আবৃত্তির মঞ্চ বছর পাঁচেক আলোয় আলোকিত হল তারপর তৈরি হল মহুল স্টুডিও। একা একটি মেয়ে সকলকে নিয়ে হইহই করে কবিতা গানে নাটকে মঞ্চ মাতালেন। মাত্র দশবছরের মধ্যে একটা-দুটো থেকে পাঁচটা স্টুডিও! বাংলার কিংবদন্তীদের অকুণ্ঠ প্রশংসা।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, মীর, শুভাশিস মুখোপাধ্যায় এবং আরও অনেকে, সকলেই মহুল স্টুডিওর কাজে, গুণগত মানে, ব্যবহারে আর পেশাদারিত্বে প্রশংসায় পঞ্চমুখ৷

সিনেমা প্রযোজনা ভাবলেই কী বিশাল কাজের দায়িত্ব মাথায় ঘুরপাক খায়৷ কবিতার মঞ্চ, কবিতার স্টুডিও, গান কবিতার যুগলবন্দী একের পর এক কাজ করতে করতে সিনেমা প্রয়োজনার স্বপ্ন দেখেছিল সেই মেয়ে৷ কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝের বন্ধুর পথটুকু পেরোতে পারে কজন? কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই একেবারে প্রযোজনায় ২০২০। শুরু হল ‘প্যাস্টেল এন্টারটেনমেন্টস্ অ্যান্ড মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’। তাও আবার এই কঠিন সময়!
একদিন কোন এক আড্ডায় অরিন্দম গাঙ্গুলির সঙ্গে গল্পে উঠে এসেছিল ‘চলো পটল তুলি’র প্রসঙ্গ। রঙ্গমঞ্চে ২৫০ রজনী অতিক্রম করা বিখ্যাত এই নাটকটিকে সিনেমায় ধরতে চাইছিলেন অরিন্দম। গল্পটা শুনেই আর বিশেষ কিছু ভাবেননি শাঁওলী। ঠিক করেছিলেন প্রযোজনা করবেন সিনেমাটি। আর তারপরেই
থিয়েটার আর সিনেমার অপূর্ব সংমিশ্রণে তৈরি হল চলো পটল তুলি৷

আরোও পড়ুন :