Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?

74
- Advertisement -
Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?
Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?

ঘুম থেকে উঠেই বেলকনি তে আরাম কেদারায় বসে চায়ে চুমুক, কোন বাঙালি চায়না ? এই যেন আলাদাই এক তৃপ্তির স্বাদ। এবার ভাবুন যদি বেলকনির নিচে তুলোর মতো ভাসমান মেঘ আর যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই পাহাড় আর পাহাড়? চায়ের স্বাদ যেন ডবল হয়ে যায় তাই না ? হ্যাঁ, এমনি এক স্বাদের ঠিকানা Ramdhura (রামধুরা)। যেন পাহাড় আর মেঘের রাজধানী, যেন মেঘের মাঝে ভাসমান এক স্বর্গ। অসাধারণ জায়গা বললে ভুল বলা হবে, বরং বলতেই হয় অচেনা এক স্বর্গের কথা। ইচ্ছে ছিল পাহাড় যাবো, চেনা দার্জিলিং অথবা গ্যাংটক থেকে পাহাড়ের অচেনা কোনো ঠিকানায়। যদিও রামধুরা অনেকের কাছে চেনা হলেও আমার কাছে অচেনাই ছিল। ঘুম থেকে উঠে বেলকনি তে চায়ের চুমুক হোক বা সন্ধ্যের পাহাড়ি ওয়াইনের চুমুক সবকিছুতেই যেন এক তৃপ্তির স্বাদ। যেন দুদিনের জন্য হারিয়ে যাওয়া চেনা ব্যস্ততা থেকে, হয়তো নিজেকে আলাদা ভাবে চেনা।

Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?
Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?

Ramdhura (রামধুরা) কিভাবে যাবেন?

- Advertisement -

প্রথমেই আপনাকে শিলিগুড়ি পৌঁছে যেতে হবে তারপর বাস স্ট্যান্ড থেকে কয়েক মিনিট অন্তর অন্তর বাস কালিম্পঙ যাওয়ার। মাত্র কিছু টাকা ভাড়া দিয়েই বাসে করে পৌঁছে যান কালিম্পঙ। ছোট শেয়ার গাড়িও পাবেন কিন্তু ধীর গতির বাস আর জানলার ধারে সিট আপনার আলাদা ভালোবাসা জন্মাবে পাহাড়ের ওপর। পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কালিম্পঙ পৌঁছে গিয়েই আপনি চাইলে ছোট গাড়ি ভাড়া করতে পারেন অথবা শেয়ার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে পারেন Ramdhura (রামধুরা) যাওয়ার। কালিম্পঙ থেকে Ramdhura (রামধুরা) খুব দূর নয় তবে কালিম্পঙ থেকে রামধুরা অনেকটাই উঁচুতে তাই পাহাড়ি রাস্তায় একটু সময় লেগেই যায় রামধুরা পৌঁছাতে।

Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?
Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?

কোথায় থাকবেন?

Ramdhura (রামধুরা) একটি অফবিট জায়গা হওয়ার দরুন আপনি ওখানে খুব বড় হোটেল পাবেন না তবে পাবেন অজস্র হোম-স্টে। বিশ্বাস করুন, হোটেলে থাকার চেয়ে সহস্র গুন বেশি মজা পাবেন পাহাড়ের খাদের কিনারায় থাকা হোম-স্টে গুলোতে থেকে। বেলকনির দরজা খুললেই পাহাড়,মেঘ,খাদ। মাথা পিছু মোটামুটি হাজার টাকার মতো খরচ করেই হোম-স্টে পেয়ে যাবেন যদিও এটা সিজন অনুযায়ী নির্ভর করে তবে পয়সা যে উশুল হবেই এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সকালে ঘুম থেকেই চা আর ব্রেকফাস্ট, দুপুরে লাঞ্চ, সন্ধ্যে তে চা ও স্ন্যাক, রাতে ডিনার। সবকিছুই পাবেন হোম-স্টে তে, ওই টাকার মধ্যেই।

Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?
Ramdhura (রামধুরা) : কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি দেখবেন ?

কি দেখবেন?

এটিই সবথেকে কঠিন প্রশ্ন, পাহাড়ের অফবিট জায়গায় গিয়ে কি দেখা যায় বলুন তো? অফবিট জায়গায় দেখার চেয়েও বেশি অনুভব করা যায়, যেদিকে তাকাবেন শুধু পাহাড় আর মেঘ, জনকোলাহলহীন, শুনশান, নীরবতার এক অদ্ভুত সৌন্দর্যতা কে তো দেখা যায় না বরং অনুভব করাই যায়। চাইলেই পাহাড়ি রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে পারেন Ramdhura (রামধুরা) এর আশেপাশের গ্রামগুলো, প্রতিটি গ্রামে একটি করে চা খাওয়ার স্টপেজ, আর কি চাই বলুন তো? ওখানে এক শিবের মন্দিরও আছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে খুব জাগ্রত মন্দির, চাইলে পূজাও দিতে পারেন। পূজার সামগ্রী আগে থেকে কিনে নিয়ে যাওয়ার কোনোই দরকার নেই, মন্দিরের নিচেই সব পেয়ে যাবেন। পূজার সামগ্রী ওখানে কিনে সিঁড়িতে বেশ কয়েক ধাপ পেরিয়ে পৌঁছে যাবেন শিব মন্দির।

আলাদা এক শান্তির জায়গা এই শিব মন্দির, পাহাড়ের উঁচুতে নিরিবিলি এক শিবমন্দির, চাইলেই ঘন্টার পর ঘন্টা ওখানে সময় কাটিয়েই দেওয়া যায়। অথবা পায়ে হেঁটে ইচ্ছেগাওঁ, সিলারি গাঁও এবং আশেপাশের আরো প্রচুর জায়গা, তবে কি জানেন তো যেখানেই যাবেন অনুভূতি সেই একই, পাহাড়ের এপার আর ওপার। ওর থেকে বরং আপনি চাইলে বিন্দাস ২ দিন হাতে ওয়াইনের গ্লাস তুলে ল্যাদও কাটাতে পারেন বেলকনির কেদারায় বসে। নেশা কাটলে নাহয় ফিরবেন Ramdhura (রামধুরা) ছেড়ে আবার আপনার ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত কর্মজীবনে।
(লেখা : সৌরভ দত্ত)

আরোও পড়ুন :