ঘটনার তদন্ত না করেই পাকিস্তান কে দোষারোপ করা ঠিক হচ্ছে না – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

73671
- Advertisement -
Image Source : Google

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন যে, পুলওয়ামা কান্ডের তদন্ত না করেই যেভাবে দোষারোপ করা শুরু হয়েছে, সেটা একদমই ঠিক হচ্ছে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে বেরনোর সময় মমতা বলেন যে , “পররাষ্ট্র বিষয়ে আমি সচরাচর মন্তব্য করি না, এবং এ সব ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানই আমার অবস্থান। তবে গতকাল ঘটনার পর পরই আমি দেখেছি মন্তব্য করা হয়েছে যে, জানিয়ে, এ ঘটনার পিছনে নাকি পাকিস্তানের হাত রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, “ কখনো বিশদে না গিয়ে কোনও সিদ্ধান্তই কোনো সময় নিয়ে নেওয়া ঠিক নয়, কারণ বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর। সেটা মাথায় রেখে আগে পুরোপুরি তদন্ত করা হোক। তার পর না হয় যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।” পুলওয়ামা কাণ্ডের পর যখন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার পাকিস্তানকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলছে এবং কূটনৈতিক ভাবে ইসালামাবাদকে রীতিমত একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ের উপর ভয়ঙ্কর জঙ্গি হানার দায় স্বীকার করেছিল জইশ ই মহম্মদ। যাদের মাস্টারমাইন্ড মাসুদ আজহারকে এবং তামাম জঙ্গি ঘাঁটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রয়েছে । তার পর রাত পোহাতে না পোহাতেই সরাসরি নাম না করেই শুক্রবার পাকিস্তানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেন যে, শহিদদের বলিদান ব্যর্থ হতে দেব না। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির একটি বৈঠক করা হয়, এবং সেই বৈঠকের পর সরকার জানিয়ে দেয় যে, ভারত পাকিস্তানকে তাদের বন্ধু হিসাবে যে সরকারি মর্যাদা দিয়েছিল তা এবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হল, পরে দুপুরে ঝাঁসিতে এক সভা থেকেও সরাসরি নাম না করেই পাকিস্তানের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এবং তার সেই সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দেন যে, পুলওয়ামা তে যে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে তা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। সরকার দেশের মানুষের কষ্ট বুঝতে পারছে, তবে কবে, কখন, কোথায়, প্রত্যাঘাত করা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে সরকার। তবে এই বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক লক্ষ্যে করা গেছে। কিন্তু বিষয়টা হলো যে, কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই মন্তব্যটা করলেন? এ ব্যাপারে আবার বিজেপির মুখপাত্ররা বলছেন যে, পুলওয়ামা তে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েও রীতিমত রাজনীতি শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাধারণত সংখ্যালঘুদের সন্তুষ্ট করার জন্য এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছেন যে, পুলওয়ামার ঘটনার দায় যে পাকিস্তানের উপর চাপানো হচ্ছে, তাতেও তিনি রীতিমত আপত্তি জানাচ্ছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, পুলওয়ামার এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই রাজনীতি শুরু করেছেন। এ দিন তিনি আরও বলেন যে, পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের সাথে যে ভয়াবহ কান্ড ঘটেছে, তা নিয়ে কখনোই রাজনীতি করা উচিত নয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবেই ওই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়েও রাজনীতি শুরু হয়ে গিয়েছে, তিনি বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল এ দিনের সকল সরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করে তিন দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে দেওয়া। পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তাই তিনি হয়তো তুষ্টীকরণের রাজনীতি করার জন্যই তদন্তের কোনো প্রসঙ্গই তোলেননি, তবে ইতিমধ্যেই অবশ্য পুলওয়ামার ঘটনার পর অনেকেই মনে করছেন যে, এটাও কোনও ষড়যন্ত্র নয় তো? কারণ, গোয়েন্দা সূত্রের কাছে এই ঘটনার আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও, এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা কেনো আটকানো গেল না সেটা একটা বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে যখন পাঠানকোটে বায়ুসেনা ছাউনি এবং উরিতে সেনা ছাউনিতে পরপর হামলা ঘটলো, তারপর পরেও কেনো সরকার সতর্ক হয়নি এখন সেই প্রশ্নও উঠছে। বস্তুত, উনিশের ভোটের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে অনেক রাজনৈতিক মহলে। সম্ভবত, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সন্দেহই মানুষের মধ্যে আরও জাগিয়ে তুলতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে ।

আরোও পড়ুন :