বাঁকুড়ায় মুড়ির জন্য আস্ত মেলা, জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান

244
- Advertisement -


অনিরুদ্ধ সরকার,বাঁকুড়াঃ কেউ খাচ্ছেন মুড়ি দিয়ে চপ, বেগুনি, টমেটো পেঁয়াজ কারো আবার মুড়ির সঙ্গে পছন্দ ঘুগনি জিলিপি,মিষ্টি বাঁকুড়ার কষে গ্রাম সংলগ্ন দ্বারকেশ্বর নদির চরে সোমবার এভাবেই নানা স্বাদে মুড়ি উপভোগ করতে ভিড় করেতে বসেন পার্শবর্তী ৪০ থেকে ৫০ টি গ্রামের আট থেকে আশি সকলের। বাঁকুড়া সদর থানার কেঞ্জাকুড়া লাগোয়া দ্বারকেশ্বর নদের সঞ্জীবনী ঘাটে ফি–‌বছর মাঘ মাসের ৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় মুড়ি মেলা। তবে মেলাটি সঞ্জীবনী ঘাটে হয় বলে কেউ কেউ এই মেলাকে সঞ্জীবনী মেলাও বলেন।

- Advertisement -

এলাকার তিন থেকে চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৪০-৫০ টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ এদিন সকালেই দলে দলে চলে আসেন মুড়ি নিয়ে। পরিবারের সদস্য অথবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বিভিন্ন পদ দিয়ে মুড়ি খেতে ভিড় জমান কয়েক হাজার মানুষ শীতের নরম রোদে দিন পর একসঙ্গে মুড়ি খাওয়ার পাশাপাশি চলে হৈ হুল্লোড় আর আনন্দ নদের তীরে বসে মজা করে খান মুড়ি। এবছর করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে মেলা যেনো আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মুড়ি খেতে আসা কেঞ্জাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্ত কর জানান, কথিত আছে এই মেলা চলে আসছে প্রায় ২০০ বছর ধরে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এলাকার ভান্ডারবেড় গ্রামের জমিদার পরিবারের সন্ন্যাসী রায়কিশোর চট্টোপাধায়। জমিদার পরিবারে জন্ম হলেও তিনি যুবক বয়সে সন্ন্যাস নিয়ে তীর্থক্ষেত্রে চলে যান। পরে জমিজমা নিয়ে অন্য ভাইদের মধ্যে বিরোধ শুরু হলে তাঁকে কয়েক দিনের জন্য ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, ফিরে আসবেন কিন্তু কারও বাড়িতে তিনি থাকবেন না। তাঁর জন্য দ্বারকেশ্বর নদের তীরে বাড়ি বানিয়ে দিতে হবে। সেই বাড়িই এখন সঞ্জীবনী মন্দির। মাঘ মাসের ১ তারিখ মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্য থেকে সেখানে শুরু হয় নাম সংকীর্তন ও উৎসব। ৪ তারিখে শেষের দিনে মুড়ি মেলা।

এছাড়াও জানা যায় বহু বছর আগে ওই এলাকা ছিল জঙ্গলে ঢাকা। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা হরিনাম শুনতে আসতেন আশ্রম। হিংস জীবজন্তুর আক্রমণের ভয়ে রাতে তারা নিজেদের গ্রামে ফিরতে পারতেন না সারারাত জেগে নাম গান শুনে পরের দিন সকালে দারকেশ্বরের জলে স্নান করে নিজেদের সঙ্গে থাকা মুড়ি ভিজিয়ে খেয়ে বাড়ী ফিরতেন। আগে আসতেন এলাকার ৮–১০টি গ্রামের মানুষ। মুড়ি খেয়ে দুপুরে মেলা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর এই মেলার জনপ্রিয়তা বেড়েছে তা থেকে মেলা দর্শনার্থীর সংখ্যাও ব্যাপক রূপ নিয়েছে। বাঁকুড়া জেলার অন্যান্য ব্লক থেকেও মেলা দেখতে আসেন বহু মানুষ। এমনিতেই বাঁকুড়ায় মুড়ি খাওয়ার প্রচলন বেশি। মুড়ি মেলায় এসে সেই বহর যেনো আরো বেড়ে যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে দারকেশ্বর নদীর গর্ভে চুয়া কেটে জল বের করে তা দিয়ে মুড়ি খান সঙ্গে সাধ্য অনুযায়ী যুক্ত হয় চপ, সিঙ্গারা, লঙ্কা,পেঁয়াজ, চানাচুর,নারকেলের মিষ্টি, গুড়, পিঠে। মুড়িকে ঘীরেই মেতে ওঠে সমগ্র কেঞ্জাকুড়া।

আরোও পড়ুন :