ভ্যাকসিন নেওয়া মায়ের স্তনদুগ্ধ পানে কোভিডের অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে শিশুর শরীরে

স্তনদুগ্ধ
শিশুদের কাছে অমৃতসম গুণ দেয় মাতৃদুগ্ধ।এই কথা শুধুমাত্র প্রচলিত কথাই নয়,এর বাস্তবতাও দেখা যায় বার বার।পুষ্টি থেকে রোগ প্রতিরোধের একাধিক উপাদান শিশু পেয়ে যায় মাতৃদুগ্ধ থেকে।বিজ্ঞানসম্মত ভাবেও একথা প্রমাণিত।বর্তমানে আবার গবেষণায় উঠে এসেছে বড়ো তথ্য।সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যেই সমস্ত মা ভ্যাকসিন নিয়েছেন,তাদের স্তনদুগ্ধের মাধ্যমেই সদ্যোজাত শিশু পেয়ে যেতে পারে কোভিড ১৯ অ্যান্টিবডি।

- Advertisement -

ইউনিভার্সিটি অফ ম্য়াসাচুসেটস আমহার্স্টের একদল গবেষক সম্প্রতি এই সমীক্ষা চালিয়েছেন।তাদের এই সমীক্ষার ফলাফল ও সিদ্ধান্ত একটি বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশ পাওয়ার পর গোটা বিশ্ব আশার আলো দেখছে।অভিভাবকরা শিশুদের কোভিড প্রতিরোধ নিয়ে এতদিন অবধি বেশ চিন্তাতে ছিলেন।গবেষকদের এই সমীক্ষার পর কিছুটা নিশ্চিন্ত তারা।

জানা গিয়েছে এই পরীক্ষায় প্রায় ৩০ জন মা শামিল হয়েছিলেন,তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী।পরীক্ষায় শামিল হওয়া প্রত্যেকেই ভ্যাকসিন নিয়েছেন।এদের স্তন দুগ্ধের নমুনা সংগ্রহ করা হয় তিন দফায়।ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে , প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর। প্রতি ক্ষেত্রেই, ভ্যাকসিন নেওয়ার নির্দিষ্ট দিন পরেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দেখা গিয়েছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর প্রত্যেকের স্তনদুগ্ধেই প্রয়োজনীয় অ্যন্টিবডির দেখা মিলেছে।এরপর এই মায়েদের শিশুদের মল সংগ্রহ করা হয় পরীক্ষার করে দেখার জন্য যে আদৌ কি শিশুদের শরীরে সেই অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কিনা।

সমস্ত রকম পরীক্ষা করার পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গবেষকরা।তারা জানিয়েছেন ভ্যাকসিন নেওয়ার পর যে যে মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাদের প্রত্যেকের স্তনদুগ্ধে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডির দেখা মিলেছে।গবেষকরা বলছেন ভ্যাকসিন নিয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লেও আখেরে লাভ হয়েছে তাদের সন্তানদেরই।

পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে এই ধরনের মাতৃদুগ্ধ পান করে এমন দেড় মাস বয়সি শিশু থেকে ২৩ মাস বয়সি শিশুদের শরীরে এই অ্যান্টিবডি থাকছে।মাতৃদুগ্ধ যে শিশুদের কোভিড আবহে সুরক্ষা দিচ্ছে তা একপ্রকার নিশ্চিত এই পরীক্ষায়।

আরোও পড়ুন :