মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন দূর্ঘটনাগ্রস্ত বিকানের এক্সপ্রেসের এক যাত্রী

183
- Advertisement -

বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে ময়নাগুড়িতে লাইনচ্যুত হয় বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের ১২ টি বগি।এই দূর্ঘটনায় এখনও অবধি ৮ জন যাত্রীর প্রাণহানীর খবর পাওয়া গিয়েছে।এই ট্রেনেরই এক যাত্রী কমলিকা দাস।মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে নিজের অভিজ্ঞতা সকলের সাথে ভাগ করে নিলেন তিনি।

- Advertisement -

কমলিকার কথায়, ঠিক যেন আকাশ ভেঙে পড়ল!সব লন্ডভন্ড।হালকা ঘুমে চোখটা বুজে এসেছিল,তখনই হঠাৎ যেন ভূমিকম্প! গোটা ট্রেন লাফিয়ে উঠল। প্রথমটায় বুঝতে পারিনি ঠিক কি হয়েছে।আতঙ্কে উঠে বসে দেখি সব কিছু দুলছে।আতঙ্কে চেঁচিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও অনুভব করলার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোচ্ছে না।একটু থিতু হওয়ার পর দেখতে পেলাম কামরার মেঝেতে সব জিনিসপত্র,ব্যাগ ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে পড়ে।কামরায় তুমুল হইচই পড়ে গিয়েছে,চারিদিকে আর্তনাদ।

ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে স্বামীর সাথে খানিকটা ছুটে এগিয়ে গেলাম।তখনও শরীর কাঁপছে,ততক্ষনে বুঝতে আর বাকি নেই যে আমরা ভয়ংকর বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছি।আমার ডান হাতে চোট লাগলেও সেই সময় আতঙ্ক আর উত্তেজনায় তা টের পাইনি।ততক্ষনে উদ্ধারকার্য শুরু হয়ে গিয়েছে।আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করছে যাত্রীদের।আমি ওদের কাছে গিয়ে জল চাইতে একজন এগিয়ে এসে এক বোতল জল দিল।আমাদের অনেকটা দূরে নিয়ে গেল।

তিনি আরও জানান,স্বামীর সাথে জয়পুর থেকে তুফানগঞ্জে ফিরছিলেন তিনি,সাথে ছিল চার বছরের ছেলে।জয়পুরে তিনি পরিচারিকার কাজ করেন এবং তার স্বামী দিনমজুরির কাজ করেন।তার কথায়,”চার বছরের ছেলেকে নিয়ে এক বছর বাদে বাড়ি‌ ফিরছি। অনেকদিন পর শ্বশুর-শাশুড়ি নাতিকে দেখবেন। বেশ আনন্দে ছিলাম। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে নেমে দু’জনে পরোটা খেয়েছিলাম। এরপর বেশ জোরেই চলছিল বিকানের এক্সপ্রেস। আট বছর হল আমরা এই ট্রেনে যাতায়াত করি। তাই জানি, কখন নিউ কোচবিহারে নামব। ঝিমুনি আসতে বাঙ্কে শুয়ে পড়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, যদি আর ঘুম না ভাঙত! ছোট ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে ক্ষণে ক্ষণে শিউরে উঠছি। পরক্ষণে‌ মনে পড়ছে জখম হয়ে পড়ে থাকাদের আর্ত চিৎকার। চোখ বুজলে এখনও তাড়া করছে সেই বিভীষিকা। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, এ যাত্রা সপরিবারে প্রাণে বেঁচে গেলাম!”

আরোও পড়ুন :